উপকূলবর্তী বরিশাল অঞ্চলের ভাষা ও সংস্কৃতির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। দক্ষিণ বাংলার জনপদ থেকে জাতীয় রাজনীতিতে অবদান রাখার ঐতিহ্য দীর্ঘকালের। বিএনপির নতুন যে আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত হলো, তাতে এই বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে এবার দায়িত্ব পেয়েছেন শিরিন।
রাজনীতিতে অনেক নারী সদস্য থাকলেও ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে রয়েছে এমন সংখ্যা একদম হাতে গোনা। অনেকেই স্বজন কোটায় বিভিন্ন দলের হয়ে রাজনীতি করছেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠলেও তিনি ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতির মুকুটে পরিণত হয়েছেন। অন্যদিকে আরেক মুকুট বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন পুরোদস্তুর সংসারী। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি রাজনীতিতে এসেছেন।
অনেকের ক্ষেত্রেই নারী বা স্বজন কোটার নেত্রী বলা হলেও বিলকিস জাহান শিরিনের ক্ষেত্রে সেটা প্রযোজ্য নয়। বরিশালের ঐতিহ্যবাহী বিএম কলেজে ৯০এর দশকে যে ছাত্রী প্রথম এজিএস নির্বাচিত হন তিনিই আজকের বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক।
এই পদ কী তার প্রত্যাশিত? জবাবে তিনি বলেন, ‘ দলের কাছে প্রত্যাশা ছিল। নারী হিসেবে নয় কর্মী হিসেবেই দলের কাছে নেত্রীর কাছে সব সময় মূল্যায়ন আশা করেছি। বরিশাল বিএম কলেজে আমি যখন এজিএস নির্বাচিত হই। দক্ষিণ অঞ্চলের সেরা বিদ্যাপিঠ। পুরনো কলেজ প্রায় দেড়শ বছরের ইতিহাস। বিএম কলেজের শতবর্ষের ইতিহাসে আমি কলেজের প্রথম নারী নির্বাচিত এজিএস। সেসময় ভিপি জিএস এজিএস পদে নারীদের মনোনয়নই দেয়া হত না। আমি দাবি তুললাম কেন নারীরা এজিএস হতে পারবো না। ৯০এর এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় আমাকে এজিএস পদে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। সুতরাং দলের কাছে আমার প্রত্যাশা ছিল। আমি বিশ্বাস করতাম ম্যাডাম আমাকে এই পদটা দেবে। কেন যেন এই বিশ্বাসের জায়গাটা তৈরি হয়েছিল।’
ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের তুলনায় আপনার মূল্যায়ন যথার্থ হয়েছে কিনা? জবাবে শিরিন বলেন, ‘এইভাবে মাপকাঠি দিয়ে রাজনীতির বিচার করার সুযোগ নাই। রাজনীতির বিভিন্ন রকম কৌশল থাকে। বিভিন্ন রকম হিসাব থাকে। কিছু আপ-ডাউন থাকবে। এর ভেতর থেকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কারো বেশি পারফরমেন্স থাকে, কারো ত্যাগ অনেক বেশি থাকে। কারো মূল্যায়ন বেশি হয়। কারো মোটামুটি হয়। অনেকে বেশি শ্রম দিয়ে কম জায়গা পায় আবার কেউ কম শ্রম দিয়ে বেশি জায়গা পায়। এইভাবে অঙ্কের হিসেব করে রাজনীতি হবে না। কৌশল থাকে, নীতিনির্ধারকদের বিভিন্ন চিন্তা ভাবনা থাকে।’
অগ্রজদের উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে কতটা যোগ্য মনে করেন এ প্রশ্নের জবাবে শিরিন বলেন, ‘আমি জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করি। খালেদা জিয়া আমার আদর্শ। সরোয়ার ভাই আমাদের বরিশালের নেতা ছিলেন। তার আগে আমাদের আঞ্চলিক রাজনীতির অভিভাবক ছিলেন সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ইউনুস খান। উনি আমার স্থানীয় আদর্শ। কারণ জিয়াউর রহমানে আদর্শ নিয়েই উনি সততার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। পরবর্তীতে তার উত্তরসূরি হিসেবে সরোয়ার ভাই জেলা বিএনপির রাজনীতিতে আসে। পরে আমি আসছি। আমাদের সবার শ্লোগান, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান। তাদের উত্তরসূরি হিসেবে আমি আমার জায়গা থেকে মনে করি ভালোই আছি। সরোয়ার ভাইও যাদের উত্তরসূরি আমিও তাদের উত্তরসূরি।’
নতুন দায়িত্ব পেয়ে তার পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, ‘পরিকল্পনা এখন করবো। দলের যে কোনো সিদ্ধান্ত বরাবরই পালন করে আসছি। ছাত্রজীবন থেকেই বরিশাল বিভাগে কাজ করছি। জাতীয় নির্বাচন, ম্যাডামের বরিশাল বিভাগীয় কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে আমি অংশ গ্রহণ করেছি। বরিশাল বিভাগে আমাদের সাংগঠনিক ৮ জেলা। প্রতিটা জেলার সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। সেই ছাত্রজীবন থেকে। আমার সময় যারা ছাত্র রাজনীতি করেছে তারাই এখন জেলার বড় বড় দায়িত্বে আছে। বর্তমানে অবৈধ সরকারের গুম, হত্যা নির্যাতন, বিরোধী দলের প্রতি অত্যাচার এদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে নেতাকর্মীদের মাঠে নিয়ে কাজ করাই হবে একমাত্র উদ্দেশ্য।’
বিএনপি-জামায়াত জোটের ভবিষ্যত সম্পর্কে বিএনপির এই নেত্রী বলেন, ‘বিএনপি সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল। নিজস্ব নীতি আদর্শ রয়েছে। নিজস্ব গঠনতন্ত্র আছে। নির্বাচনের একটা কৌশল জামায়াতে ইসলাম। জামায়াতকে নিয়ে বিএনপির নীতি নির্ধারকদের নিশ্চয়ই ভবিষ্যত চিন্তা আছে। নির্বাচনী কেন্দ্রীক জোট যেহেতু সামনে নির্বাচনে সেভাবেই চিন্তা করবে।’
খালেদা জিয়া ২০১৯ সালের আগে রাজনীতি থেকে ছিঁটকে পড়তে পারেন ব্রিটিশ সংসদীয় এক প্রতিবেদন হাস্যকর দাবি করেন শিরিন।
তিনি বলেন, ‘এই ধরনের প্রতিবেদনে অবাক হই, অবিশ্বাস্য মনে হয়। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। কোনো নির্বাচনে তার পরাজয়ের ইতিহাস নেই। বিএনপি একটি জনপ্রিয় দল। এই দলকে নিয়ে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। দলের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক নির্যাতন মূলক আচরণ করা হচ্ছে সেই ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া ছিটকে পড়বে আমি মনে করি এটা হাস্যকর। এটা বলার জন্য বলা ভাবা, বা চিন্তা করার সুযোগ নেই। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করবে। আমরা এটা বিশ্বাস করি।
মন্তব্যসমূহ